সৈয়দ মইনুল হোসেন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই ঈদগাহ মাঠে এবার ১৯৮ তম ঈদুল ফিতরের জামাত আদায় করা হবে। প্রাচীন ও ঐতিহাসিক এই শোলাকিয়া মাঠে ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লীরা এসে জড়ো হয়েছেন।দেশ ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও বহুসংখ্যক মুসল্লী এখানে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এসেছেন ঈদের নামাজ আদায় করতে। বিশাল এই ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠে এবার ৫ লাখেরও বেশি মানুষ নামাজ আদায় করবেন বলে ধারণা করছেন মাঠ পরিচালনা কমিটি।
মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান সময়ের ডাককে জানান, মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার মাঠের চারদিকে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।৪টি অস্থায়ী উঁচু টাওয়ারের মাধ্যমে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া মুসল্লিদের ওজু করার জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, ” শোলাকিয়া এক্সপ্রেস ” নামে দুটি বিশেষ ট্রেন ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে মুসল্লিদের শোলাকিয়া মাঠে আনা নেয়া করবে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ পৌরসভা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ, জেলা চেম্বার অব কমার্স সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ মাঠে ওজু, গোসল এবং শোলাকিয়া মাঠে সহজে প্রবেশের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখাসহ মুসল্লিদের সার্বিক সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী জানান,বৃহত্তম ঈদ জামাত কে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে চার স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।৫ প্লাটুন বিজিবি,৭০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি RAB, আনসার ও গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া মাঠের ২৮টি গেইটে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করে মাঠে প্রবেশ করানো হবে। এছাড়া ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শোলাকিয়া মাঠ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ এরশাদ মিয়া জানান, সকাল ১০টায় ঈদের জামাত শুরু হবে। এবার ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন ১৬ বৎসর পরে ফিরে আসা শোলাকিয়া মাঠের খতিব বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা এ কে এম সাইফুল্লাহ। মাঠে জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা কাতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে চট্টগ্রাম থেকে আসা মোঃ রফিক মিয়া জানান, জীবনের একটি আশা ছিল এই মাঠে নামাজ আদায় করা।জামাতে নামাজ আদায় করতে পারলে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করবেন তিনি। এছাড়া সৈয়দপুর থেকে আসা মোঃ নেওয়াজ খান বলেন, দুই ছেলে নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করতে শোলাকিয়ায় এসেছি। আল্লাহ যেন কোন নেককার বান্দার উসিলায় জীবনের সকল গোনাহ মাফ করে দেন।
জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নাজমুল আলম প্রতিবেদককে বলেন, আওয়ামী সরকারের পতনের পর এবার মনে হয় পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ এই ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠে নামাজ আদায় করবেন।
উল্লেখ্য,১৮২৮ সনে এই শোলাকিয়া মাঠে প্রথম ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন সোয়া লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেছিল বলে এর নাম হয়েছিল সোয়া লাখিয়া মাঠ। কালের বিবর্তনে এখন শোলাকিয়া মাঠ নামাকরণ হয়েছে এবং পূর্বের চেয়ে প্রতি বছরই মুসল্লির সংখ্যা বাড়ছে।