• বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দেড় শতকের ইতিহাস কাঁদে বাউন্ডারির ওপারে : সতাল মহাশ্মশানের ঐতিহ্যবাহী মাঠ ও জমি দখলের অভিযোগ, এলাকায় ক্ষোভ উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম গাজীপুর মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাইলেন জিএমপি কমিশনার গাজীপুরের বাসনে ধর্ষণ মামলার আসামি সিয়ামকে খুঁজছে পুলিশ, গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত কৃষকলীগ নেতাকে আটকের পর টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এসআই কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে গাজীপুরে আমবাগ এলাকায় জুমার নামাজ শেষে আ.লীগ নেতা আনোয়ার পারভেজ আটক আত্রাইয়ে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্বাস্থ্যকর্মী আতিকুর গ্রেফতার আসামির দায়ের কোপে রক্তক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের তাড়াইল উপজেলা পরিদর্শন, নানা সেবামূলক কাজের উদ্বোধন ও বিতরণ গাজীপুরে নিষিদ্ধ যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশকে হত্যার হুমকি : এদায় নেবে কে?

উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম

মাটি মামুন, রংপুর / / ১৭ Time View
Update : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

21

মাটি মামুন, রংপুর :

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামে চলমান সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম,দুর্নীতি ও উৎকোচ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ, কৃষকদের হয়রানি এবং সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আলহাজ্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার রহমান। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খান সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের পরিবর্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকের মাধ্যমে ধান ক্রয় করছেন। অভিযোগে চাল ব্যবসায়ী (মিলার) ফজলু মিয়া, আইয়ুব আলী, জয়নাল আবেদীন, নজরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অংশ নিতে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি টনে প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায় করা হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির পেছনে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক উম্মে কুলছুমা খাতুনেরও মদদ রয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার রহমান অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত সোমবার (৬ জুলাই) বিষয়টি নিয়ে খাদ্য গুদামে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খান তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও অশোভন আচরণ করেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্যাদাহানিকর বলে তিনি মন্তব্য করেন। কৃষক আলমগীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন,নিজের উৎপাদিত ধান খাদ্য গুদামে দেওয়ার জন্য প্রায় এক মাস ধরে ঘুরছি। এখনো আমাকে বস্তা দেওয়া হয়নি। অথচ ব্যবসায়ীদের নিয়মিত বস্তা সরবরাহ করা হচ্ছে। আমাদের বলা হচ্ছে, বস্তা আসলে দেওয়া হবে। এতে সাধারণ কৃষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।অভিযোগে আরও জানা গেছে, লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হলেও তালিকাভুক্ত অনেকের কাছে বর্তমানে ধান নেই। ফলে তাদের পরিবর্তে খাদ্য গুদামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাই ধান কিনে কৃষকদের নামে সরবরাহ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি ধান সংগ্রহ কর্মসূচি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান সরবরাহ করতে পারছেন না, তাদের নাম বাদ দিয়ে নতুন করে প্রকৃত ধান চাষিদের তালিকা প্রস্তুত করা হোক। একই সঙ্গে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কৃষকদের সমঅধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক উম্মে কুলছুমা খাতুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খান বলেন, খাদ্য গুদামে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধান নেওয়া হয় না। উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন,লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


More News Of This Category
bdit.com.bd