সৈয়দ মইনুল হোসেন, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
ভৈরবে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ আটক হওয়া দুই স্বর্ণকারকে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা পর থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে জব্দ করা ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকাও তাঁদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো মামলা বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বিপুল এই অর্থসহ তাঁদের মুক্তি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ভৈরব থানা থেকে ছাড়া পান দুই স্বর্ণকার—ভৈরব শহরের গাছতলাঘাট এলাকার সপু দেবনাথ (৩০) ও ভৈরব বাজারের শীমল দেবনাথ (২৭)। সপু দেবনাথ ভৈরব বাজারের ‘কথা শিল্পালয়’ নামক একটি স্বর্ণের দোকানের মালিক। এর আগে, বুধবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ তাঁদের আটক করেছিল পুলিশ। গভীর রাতে বস্তাভর্তি টাকা উদ্ধারের খবরটি ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আটকের পর দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা তাঁদের পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়। সাধারণত এত বড় অঙ্কের নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় আয়ের উৎস নিয়ে তদন্ত বা মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নিয়ম থাকলেও, এ ক্ষেত্রে কেন তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলো—তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তুঙ্গে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দকৃত টাকার উৎস এবং ওই দুই ব্যক্তির পরিচয় নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া টাকাগুলো বৈধ ব্যবসার আয় হিসেবে প্রমাণ পাওয়ায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেগুলো ফেরত দিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বিপুল অংকের টাকাসহ আটকের পর কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা ছাড়াই টাকা ফেরত ও মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। ভৈরব বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষা চলছে। যদি টাকা বৈধই হয়, তবে গভীর রাতে কেন তা পরিবহন করা হচ্ছিল অথবা উদ্ধারকৃত টাকার অংক এবং ছাড়ার পেছনের প্রক্রিয়া নিয়ে পর্দার আড়ালে অন্য কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, তা নিয়ে চায়ের দোকানে চলছে জোর আলোচনা। মুক্ত পাওয়া স্বর্ণকার সপু দেবনাথের স্বজনদের দাবি, তাঁরা স্বর্ণ ব্যবসার নিয়মিত লেনদেনের জন্যই ওই টাকা সাথে রেখেছিলেন। হয়রানি এড়াতে তাঁরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুলিশকে দেখিয়েছেন বলেই মুক্তি পেয়েছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং বা লিখিত বিবৃতি এখনো পাওয়া যায়নি। ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকা উদ্ধারের পর এভাবে ছেড়ে দেওয়ার নজির ভৈরবে বেশ বিরল বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।