গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুরের বালুর গদির আড়ালে রোমান নামের এক ব্যক্তি প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যদের সঙ্গে যোগসাজশে চোরাই জ্বালানি তেলের অবাধ ব্যবসা চালাচ্ছেন। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে প্রকাশ্যে এমন অবৈধ কার্যক্রম চলতে থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এই চোরাই তেল বিক্রির কারণে নাশকতার মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন আহাম্মেদের নাম ভাঙ্গিয়ে রোমানের দোকান থেকে তার গাড়ির ড্রাইভার প্রতি মাসে বিশ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যরাও এ ব্যবসায় লিপ্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ি বাইমাইল এলাকায় বালুর গদির আড়ালে অবস্থিত রোমানের দোকান থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা পাইপের মাধ্যমে সরাসরি গাড়ির ট্যাংকে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল নামিয়ে নিচ্ছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি পাম্পগুলো সরাসরি বোতল বা খোলামেলা জ্বালানি তেল বিক্রি না করায়, দুষ্কৃতকারীরা এই অবৈধ উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করে নাশকতা ও অন্যান্য অবৈধ কাজে ব্যবহার করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, গত বুধবার (১২ নভেম্বর) রাতে গাজীপুর সদর উপজেলার বানিয়ারচালা এলাকায় পেট্রোলবোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের তিন নেতাকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ মিলিলিটার পেট্রোল, সাদা প্লাস্টিকের চিকন পাইপ, বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে, শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাতে শ্রীপুরের বারতোপা বাজারে গ্রামীণ ব্যাংকের এক শাখায় দুটি পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এছাড়াও একইদিন রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন স্টেশন রোডের মন্নু টেক্সটাইল মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, চোরাই জ্বালানি তেলের ব্যবসা এসব নাশকতার ঘটনার অন্যতম উৎস। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে তেল কেনাবেচা হলেও প্রশাসনের নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। স্থানীয়রা এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, এমনকি হুমকি-ধমকি দেয় চোরাই তেল কারবারিরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্বালানি তেল ক্রেতা বলেন, ‘এ জায়গায় একটা দোকান ওসিরে বিশ হাজার টেহা দেয়। ওসির ড্রাইভার এনে আহে না, কোনাবাড়ী আরিফ কলেজের সামনে আহে, টেহা ওখানে দিয়ন লাগে। একদিন আমার কাছে আইসা তেলের টেহা নিয়া গেছে ওসির ড্রাইভাররে টেহা দিয়নের লাইগা। ’স্থানীয় সূত্র জানায়, কেনাবাড়ীর বাইমাইল এলাকায় আগে বেশ কয়েকটি চোরাই জ্বালানি তেলের দোকান ছিলো। এখন আগের মতো বেশি দোকান নেই। বাইমাইল এলাকায় অবৈধ তেলের দোকান এখন রোমানের একটি। আরেকটি সমর বাবুর দোকান, তবে তা প্রায় সময় বন্ধ থাকে। চোরাই তেল ব্যবসায়ী রোমান শুধু পুলিশ নয়, তথাকথিত কিছু সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীকেও টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করে রাখে বলেও অভিযোগ রয়েছে। চোরাই জ্বালানি তেল বিক্রেতা রোমানের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ক্ষুদে বার্তা দিলেও প্রতিউত্তর মিলেনি রোমানের কাছ থেকে। এদিকে, অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ন অস্বীকার করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন আহাম্মেদ। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি দোকান খোলা রাখে বা নাম ভাঙিয়ে টাকা নেয়, সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপ-কমিশনার (ক্রাইম উত্তর) মো. রবিউল হাসান বলেন, ‘আপনারা আমাদেরকে চোরাই তেলের দোকানের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন, এ বিষয়ে এখনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’-বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রশাসনের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই মহাসড়কের পাশে অবৈধ জ্বালালি চোরাই তেলের দোকান গড়ে ওঠেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হিসেবে এই অবৈধ তেল ব্যবসা দ্রুত বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।