সৈয়দ মইনুল হোসেন, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
এখন দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে থাকার কথা ছিল সোনালী বোরো ধানের বীজতলা তৈরির কর্মব্যস্ততা। কিন্তু না, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলাজুড়ে এখন শুধুই নিশ্চল জলরাশি আর কৃষকের দীর্ঘশ্বাস। ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে বাদাঘাট থেকে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমি এখনও পুরোপুরি পানির নিচে। বৈঠাখালি নদীর মুখ পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় সৃষ্ট এই কৃষি বিপর্যয়ে কলমা, আদমপুর ও পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের প্রায় তিন হাজার কৃষক পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। হাওরের প্রথা অনুযায়ী, এই সময়ে জমি শুকিয়ে চাষের উপযোগী হয়ে ওঠে। কিন্তু এবার প্রকৃতির খেয়াল বা নদীর ভরাটে পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে থাকায় কৃষিকাজ পুরোপুরি থমকে গেছে। কলমা গ্রামের কৃষক দীপংকর দাস হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “অন্যান্য বছর এই সময়ে জমি একদম শুকনা থাকত। এবার কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর পানি। ঋণ করে বর্গা জমি নিয়েছি, কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে এক মুঠো কাজও করতে পারছি না। “স্থানীয়দের অভিযোগের তীর সরাসরি বৈঠাখালি নদীর দিকে। সাতটি মৌজার ২৫০০ হেক্টর জমি জলমগ্ন হওয়ার মূল কারণ – বাদাঘাট সংলগ্ন বৈঠাখালি নদীর মুখ পলি জমে বন্ধ হয়ে যাওয়া। কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, “পানি না নামলে বীজতলা তো দূরের কথা, চাষই করা সম্ভব নয়। ইকুরদিয়া নদী খনন না করলে জলাবদ্ধতা কমবে না। “উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যে স্পষ্ট যে এই জলাবদ্ধতার গভীরতা কতখানি। অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার জানান, এই জলমগ্ন জমিগুলো থেকে সাধারণত ৩০ থেকে ৩৬ হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “পলি পড়ে নদীর মুখ ভরাট হওয়ায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘায়িত হয়েছে। সমস্যা সমাধান না হলে কৃষকেরা ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।” তিনি বিষয়টি উচ্চতর সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়েছেন। পরিবারের জীবিকা পুরোপুরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল জানিয়ে কৃষক বরীন্দ্র দাস আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “নদীটা যদি খনন না করা হয়, তাহলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। “কৃষকদের এই কঠিন পরিস্থিতিতে আশার আলো দেখিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলশাদ জাহান। তিনি নিশ্চিত করেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নজরে আনা হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং চাষাবাদের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। “তবে, কৃষক সমাজ এখন দ্রুততম সময়ে নদী খনন এবং পানি নিষ্কাশন শুরু হওয়ার প্রহর গুণছে, যাতে তারা তাদের প্রধান জীবিকা, বোরো আবাদ, বাঁচাতে পারে।