সৈয়দ মইনুল হোসেন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত হাওর।এই হাওরের সৌন্দর্যে খুঁজে পাওয়া যায় গ্রামীণ পরিবেশের স্বকিয়তা। হাওর নয় যেন বড় কোন নদীর অথৈ জলরাশি। অনেকে আবার সাগরের সাথে তুলনা করেছেন তাদের বিভিন্ন লেখাতে। এই জলরাশিতে ছুটে চলেছে নৌকা। মাঝিরা মাছ ধরছে মনের সুখে। মনে হয় মাছ ধরার উৎসব চলছে। মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করেন অনেক হাওরবাসি। কত প্রজাতির মাছ যে এখানে পাওয়া যায় তার কোন ইয়ত্তা নাই।মাছ ধরার পর জীবন্ত মাছের লাফালাফি হাওরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষ বছরে’র প্রায় ছয় মাস পানিবন্দি থাকে। হাওর বৈচিত্র্যময় ভূপ্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের এক অনন্য স্বতন্ত্র স্বত্তা বহন করে। এমন বিচিত্র প্রকৃতি ও জীবনধারা বাংলাদেশের আর কোথাও দেখা যায় না। শুকনো মৌসুমে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠের পর মাঠ জুড়ে সবুজ ধানক্ষেতের চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য আর অগনিত পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে সব-সময়। আর বর্ষায় চারিদিকে থৈ থৈ করা পানি। যেন সৌন্দর্য্যের পসরা সাজিয়ে বসে আছে হাওরের প্রকৃতি। উজান ভাটির মিলিত ধারা, নদী হাওর মাছে ভরা — এটাই কিশোরগঞ্জ জেলার পরিচয় বহন করে। হাওরাঞ্চল হওয়ায় মাছ চাষ এলাকা বাসীর মূল পেশা। তারা সমন্বিত পদ্ধতিতে হাওরে মাছের পাশাপাশি হাঁস মুরগি লালন পালন করে থাকে। রাস্তা ধরে এগুলে এই দৃশ্য চোখে পড়বেই। চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য্যের প্রতীক এই হাওরাঞ্চলের আয়তন প্রায় ২৪ হাজার বর্গ কিলোমিটার। বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত ধানের এক পঞ্চমাংশ আসে এই হাওর থেকে। এ ছাড়া রয়েছে প্রাকৃতিক মাছের বিশাল ভান্ডার।শীত – বর্ষার হাওরের স্বতন্ত্র রুপ প্রকৃতি প্রেমিদের এক দুর্নিবার আকর্ষণে টেনে নিয়ে যায় এই হাওরের হাটে মাঠে ঘাটে। হাওরের অপরুপ সৌন্দর্যের রসের সূধা পান করতে প্রতিদিন ভীড় করেন হাজারো ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক। বর্ষাকালে হাওর অঞ্চলের গ্রামগুলোকে দূর থেকে ছোট ছোট দ্বীপের মত মনে হয়। মনে হবে হাওরের পানিতে ভাসছে সেই দ্বীপ গুলো। এ সময় হাওরে চলাচল করে শত শত ইঞ্জিনচালিত নৌকা। এই ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোই এখানকার মানুষের চলাচলের প্রধান বাহন ছিল কিছুদিন আগেও। তারা একগ্রাম থেকে অন্য গ্রামে, এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলা বা জেলাতে যাতায়াত করতো এইসব ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যদিও বর্তমানে সাবমার্সিবল রাস্তার কারণে ইঞ্জিনচালিত নৌকার ব্যবহার সীমিত হয়ে গেছে। এ ছাড়াও মালবাহী কার্গো জাহাজ ও দাঁড় বেয়ে চলা নৌকা ও মাঝিদের সুরেলা গান হাওরের অনুসঙ্গ। ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে জেলেদের মাছ ধরা এখানকার নিত্যদিনের ছবি। হাওরের পানিতে হাঁসের সাথে পাল্লা দিয়ে এখান কার শিশুরাও সারাদিন জলকেলিতে মত্ত থাকে। চাঁদনী রাতে জোছনার আলোর সঙ্গে হাওরের ঢেউয়ের মাতামাতি দেখলে চোখ মন জুড়িয়ে যায়।