সজীব খান, গাজীপুর :
গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট তীব্র জলাবদ্ধতায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গাছা থানাধীন পশ্চিম কলমেশ্বর সহ আশপাশের এলাকায় পানি জমে তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতির মতো অবস্থা। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো সাধারণ মানুষ ও শিল্পকারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা। জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনজীবন স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পশ্চিম কলমেশ্বর এলাকার অর্ধশতাধিক বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। চলাচলের প্রধান সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা। বোর্ডবাজার থেকে গাছা যাওয়ার সড়ক, বোম্বাই মসজিদের পশ্চিম পাশের রাস্তা এবং আইটি গেট থেকে কাতরা-ইছর যাওয়ার প্রধান সড়ক গুলো হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে ডুবে আছে। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ এবং পোশাক শ্রমিকরা কর্মস্থলে যেতে পারছেন না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও ঢাকা বাইপাস সড়কের আশেপাশের পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, বড়বাড়ি থেকে বোর্ডবাজার পর্যন্ত মহাসড়কের পাশের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। একটি স্থানীয় খাল থাকলেও সেটি দিয়ে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সাত্তার টাওয়ারের পাশ দিয়ে মহাসড়কের যে ড্রেন রয়েছে, তা দিয়ে পানি ঠিকমতো নামতে পারছে না। ফলে বৃষ্টির পানি ওই এলাকার আবাসিক এলাকাগুলোতে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা তৈরি করছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি জলাবদ্ধ থাকলেও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গাজীপুর মহানগরী হলেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার বড়ই অভাব। সামান্য বৃষ্টিতেই আমাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। গত সরকারের আমলে অনেকবার বলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। নতুন সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, অতি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক। “গাজীপুর মূলত একটি শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় এখানে প্রচুর শ্রমিক পরিবার ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। জলাবদ্ধতার কারণে তাদের ঘরবাড়ি ও মালামাল নষ্ট হচ্ছে, যা তাদের জীবনযাত্রায় বাড়তি অর্থনৈতিক চাপের সৃষ্টি করেছে। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকেই পরিবার -পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন সংস্কার এবং খাল উদ্ধার করে পানি প্রবাহ সচল করার জোর দাবি জানিয়েছেন।