সৈয়দ মইনুল হোসেন, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
বসন্তের উদাস হাওয়ায় আজ মিশে ছিল আগামীর স্বপ্ন আর কিশোরী প্রাণের উচ্ছ্বাস। নীল আকাশে রোদের ঝিলিক আর কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের আঙিনায় বাসন্তী সাজ—সব মিলিয়ে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের অবতারণা হয় আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ) সকালে। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো ‘বসন্ত উৎসব ১৪৩২’। অনুষ্ঠানের সূচনালগ্নেই ছিল ঐতিহ্যের ছোঁয়া। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে আর সুমধুর স্বাগতম সঙ্গীতের মূর্ছনায় অতিথিদের বরণ করে নিচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল যেন কোনো এক নন্দনকানন নেমে এসেছে আখড়া বাজারের প্রাণকেন্দ্রে। লাল-হলুদ শাড়িতে সজ্জিত ছাত্রীদের মনোজ্ঞ নৃত্যশৈলী উপস্থিত সকলকে বিমোহিত করে রাখে দীর্ঘক্ষণ। অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ মাজহারুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও, জাতীয় সংসদের জরুরি অধিবেশনের কারণে তিনি সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি। তবে তার অনুপস্থিতিতেও অনুষ্ঠানের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ ছিল। প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ হাবিবুর রহমান ভূইয়াঁ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে মহিমান্বিত করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, জেলা শিক্ষা অফিসার শামছুন নাহার মাকছুদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান সভাপতি মাসুদুল হাসান। পুরো আয়োজনটির প্রাণভোমরা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন বিদ্যালয়ের দক্ষ প্রধান শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন বনিক। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকগণ, শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। উৎসবের আনন্দের মাঝেও শিক্ষার্থীরা ভুলে যায়নি তাদের প্রাণের বিদ্যালয়ের প্রয়োজনের কথা। অনুষ্ঠান চলাকালীন তারা প্রধান ও বিশেষ অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সম্বলিত সুদৃশ্য প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে। ছাত্রীদের দুচোখে ছিল একটি আধুনিক বিদ্যাপীঠের স্বপ্ন। তাদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল একটি বহুতল বিশিষ্ট আধুনিক একাডেমি ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে একটি আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন প্রধান ফটক তৈরি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ হাবিবুর রহমান ভূইয়াঁ বলেন, “কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এ অঞ্চলের নারী শিক্ষার বাতিঘর। এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে আমার পক্ষ থেকে সব ধরনের জোরালো প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।” জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব আমরা সবটুকু করব। তোমাদের স্বপ্ন পূরণে আমরা পাশে আছি। “অনুষ্ঠান শেষে বাসন্তী বাতাসের সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের মনে গেঁথে যায় নতুন এক আশার বীজ—যেখানে শিক্ষা আর সংস্কৃতি হাত ধরাধরি করে এক উন্নত আগামীর দিকে এগিয়ে যাবে।