সৈয়দ মইনুল হোসেন, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা এবং পাওনা টাকা চাওয়ায় হত্যা মামলায় কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ধলা ইউনিয়নের সাবেক এক ইউপি সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ নূরুল আমিন বিপ্লব এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম ইসলাম উদ্দিন (৫৫)। তিনি তাড়াইল উপজেলার ধলা ইউনিয়নের তেওরিয়া গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের ছেলে এবং ধলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য। নিহত ব্যক্তি হলেন ফকির ওরফে আনার (৩৭), যিনি তাড়াইল উপজেলার উত্তর ধলা চকের বাড়ি গ্রামের মৃত ফজলুর রহমান ফকিরের ছেলে। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে ইসলাম উদ্দিন মেম্বার নিহত আনোয়ার ফকিরের মামাতো ভাই আপেল মাহমুদকে নৌবাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা নেন। চাকরি না হওয়ায় তিনি আংশিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেন। ঘটনার দিন, ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকালে তেউরিয়া বাজার মোড়ে ‘মা মেডিকেল হল’-এর সামনে আনোয়ার ফকির বাকি পাওনা টাকা চাইলে ইসলাম উদ্দিন মেম্বার তাকে বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা দ্রুত আনোয়ার ফকিরকে উদ্ধার করে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরদিন নিহতের ছোট ভাই আখলাকুল ফকির বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে তাড়াইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলার তদন্তভার পায় এবং তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। কিশোরগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে সময়ের ডাককে বলেন, “দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার পর আজ এ রায়ে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে প্রতারণা ও হত্যা করে কেউ পার পাবে না। ”রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আজগর আলী সৈকত।