• রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দুর্ঘটনা দেখতে সড়ক পার হতে যাওয়া এক বৃদ্ধের প্রাণ গেল গাড়ি চাপায়, ক্ষোভে ফুঁসছে বাহাদিয়া গাজীপুরে সাংবাদিকদের আটকে হেনস্তা অভিযোগ, বিএনপি’র কথিত নেতা মাসুদ রানাকে ঘিরে বির্তক কোনাবাড়ীতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাঁধে করের ভার, কিশোরগঞ্জে রিটার্ন দাখিলে এক দশকের সর্বনিম্ন ধস গাজীপুরে ঝুট ব্যবসার দখল নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম তুহিন হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চাইলেন সাংবাদিকরা, গাজীপুরে মানববন্ধন গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তায় আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কার্যকলাপ, মাদক ও অপরাধ বন্ধের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন গাজীপুর মহানগরীর ১৮ নং ওয়ার্ডে দুই দিন পরপর মিটারের তার চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী গাজীপুরে হত্যার উদ্দেশ্যে মব সৃষ্টির চেষ্টা–অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন সাংবাদিক ‎সাংবাদিকের ওপর হামলা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ

গাজীপুরে সাংবাদিকদের আটকে হেনস্তা অভিযোগ, বিএনপি’র কথিত নেতা মাসুদ রানাকে ঘিরে বির্তক

স্টাফ রিপোর্টার / / ১৩ Time View
Update : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

15

স্টাফ রিপোর্টার :

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার আকতাপাড়া এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করে জিজ্ঞাসাবাদ, মানহানিকর আচরণ এবং এলাকায় পুনরায় দেখা গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা পরিচয়দানকারী মাসুদ রানা (মাসুম রানা) ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী সাংবাদিকেরা হলেন—আমির আলী, সাদিকুল ইসলাম ও আব্দুল আল মামুন। তাঁরা স্থানীয় একটি জমি-সংক্রান্ত অভিযোগ ও বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ ও ঘটনাস্থলের বাস্তবতা যাচাই করতে আকতাপাড়া এলাকায় গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ঘিরে ফেলার অভিযোগ
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহের একপর্যায়ে মাসুদ রানা ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের ঘিরে ফেলেন। সাংবাদিকেরা কেন সেখানে গেছেন, কার কাছ থেকে তথ্য নিয়েছেন এবং কী বিষয়ে সংবাদ করবেন—এসব নিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সাংবাদিকদের স্বাভাবিকভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, তাঁরা নিজেদের পরিচয় এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্পষ্ট করলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়, যা একজন সাংবাদিকের স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহের অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। ‘আবার এলাকায় এলে বিপদ হবে’—হুমকির অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের উদ্দেশে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে ওই এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের জন্য গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানার বক্তব্যও এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন সাংবাদিকরা কোনো অভিযোগ বা অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কারও বিরুদ্ধে সরাসরি অপরাধের সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না; একইভাবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীরও সাংবাদিকদের জোরপূর্বক আটকে রাখা, ভয়ভীতি দেখানো বা সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ থাকলে বিষয়টি আইনগতভাবে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রতিবাদ, বক্তব্য বা আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে আটকে রাখা কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ সত্য হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
জমি-সংক্রান্ত অভিযোগের তথ্য সংগ্রহেই কি বাধা?
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, আকতাপাড়া এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, দখল ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই সাংবাদিকেরা সেখানে গিয়েছিলেন। এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নথিপত্র, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের তদন্ত প্রয়োজন। সাংবাদিকদের দাবি, এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময়ই তাঁদের বাধার মুখে পড়তে হয়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—কোন বিষয়টি আড়াল করতে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়েছিল কি না এবং ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো স্বার্থ জড়িত রয়েছে কি না। প্রশাসনের কাছে তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকেরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তাঁরা যাতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের হামলা, হুমকি বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগটি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা। তদন্তেই বেরিয়ে আসবে প্রকৃত ঘটনা ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা, সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করার বিষয়টি, কথিত হুমকি এবং আকতাপাড়ার জমি-সংক্রান্ত অভিযোগ—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে।


More News Of This Category
bdit.com.bd