স্টাফ রিপোর্টার, আলমগীর হোসেন :
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব মৌচাক এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তির ভাড়া বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারী আইনজীবী, তাঁর ৯ বছর বয়সী শিশুকন্যা ও এক ভাড়াটিয়াকে মারধর, হত্যাচেষ্টা এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে কালিয়াকৈর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী অ্যাডভোকেট কল্পনা আক্তার (৩৭)। অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—মো. সেলিম হোসেন, রূপালী আক্তার, আলমগীর হোসেন, সখিনা বেগম ও কহিনুর আক্তার। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পিতার কাছ থেকে দলিলমূলে মালিকানা পাওয়ার পর পূর্ব মৌচাক এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করেন অ্যাডভোকেট কল্পনা আক্তার। ওই বাড়ির ভাড়া বণ্টন নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা বাড়িতে গিয়ে ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়ান। খবর পেয়ে কল্পনা আক্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানালে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রথম অভিযুক্ত সেলিম হোসেন তাঁকে চেপে ধরে রাখেন এবং দ্বিতীয় অভিযুক্ত রূপালী আক্তার তাঁকে মারধর করেন। এ সময় তাঁর কান থেকে আনুমানিক ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের ঝুমকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। অন্য অভিযুক্তরা কাঠের পিঁড়ি, জুতা ও লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করেন এবং শ্বাসরোধ ও ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর শিশুকন্যা পুষ্প মনি ও বাড়ির ভাড়াটিয়া তানজিলাকেও মারধর করে আহত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও প্রতিবেশীর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পত্তি ও বাড়ি ভাড়ার টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার সময় চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন বলে তাঁরা জানান। এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।