সাজজাকুল ইসলাম রাজ্জাক, গাজীপুর :
গাজীপুর মহানগরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের একটি ঝটিকা মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা এবং সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিছিলের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশ্ন উঠেছে— এই চরম আইন অমান্য ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের দায়ভার আসলে কে গাছা থানাধীন গাজীপুর মহানগরীর একটি প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের ৫০/৬০ জন নেতাকর্মী হঠাৎ একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিল থেকে সরকারবিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে, বিশেষ করে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে চরম আপত্তিকর এবং সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলটি মাত্র কয়েক মিনিট স্থায়ী ছিল এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এভাবে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন : পুলিশ যদি নিজেই হুমকির মুখে পড়ে, তবে সাধারণ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়? নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা কীভাবে মহানগরীর বুকে এমন উসকানিমূলক মিছিল করার সাহস পায়? গোয়েন্দা নজরদারিতে কি কোনো ঘাটতি ছিল? সচেতন মহলের মতে, এই ঘটনার দায়ভার কোনো একক পক্ষের ওপর চাপানো কঠিন, তবে প্রধানত কয়েকটি বিষয় সামনে আসছে :প্রথমত, এই উসকানির মূল দায় ওই নিষিদ্ধ সংগঠনের ওপরই বর্তায়, যারা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে তরুণদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। একটি নিষিদ্ধ সংগঠন কীভাবে মহানগরীর ভেতরে ঝটিকা মিছিলের সুযোগ পেল, সেই দায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনী এড়াতে পারে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে যারা এই ধরনের সন্ত্রাসী ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পুলিশকে হুমকি দিয়ে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। “গাজীপুরের সাধারণ মানুষ এখন চান, প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়ে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুক এবং মহানগরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখুক।