গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্রের মহড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’-এর গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি শরীফ ওমর টুটুল। সন্ত্রাসীদের রামদার কোপে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে গাছা থানার ফকির মার্কেট সংলগ্ন ইন্ডেসর পোশাক কারখানার সামনে এই সহিংস ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কারখানাটির ঝুট ব্যবসা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে তৎপর হয়ে ওঠে। ওই সিন্ডিকেটের মূল অভিযুক্ত হামিদ মণ্ডল ও তার ছেলে যুবলীগ নেতা সোহেলের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কারখানা প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে মহড়া দিতে থাকে। কারখানা এলাকার এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির তথ্য ও সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে যান সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুল। ঘটনাস্থলে তিনি স্থানীয় এক ব্যক্তির সাথে কথা বলার সময় পেছন থেকে আকস্মিক তার মাথায় ধারালো রামদা দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অন্য সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. দুর্জয় জানান : ”ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সাংবাদিক শরীফের মাথার কয়েকটি স্তর কেটে গেছে। ক্ষতস্থানে ১৭টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তবে আঘাতের গভীরতা ও ভেতরের প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত হতে সিটি স্ক্যান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। “হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আহত সাংবাদিকের চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাছা থানা প্রেস ক্লাবের দপ্তর সম্পাদকের ওপর এমন নৃশংস হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে গাজীপুরের গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান ‘প্রতিদিনের কাগজ’-এর বিশেষ প্রতিনিধি মো. আখতার হোসেন। গাছা থানা প্রেস ক্লাবসহ গাজীপুরের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই ন্যাক্কার জনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা মূল অভিযুক্ত হামিদ মণ্ডল, তার ছেলে সোহেলসহ হামলায় জড়িত সকল সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত হামিদ মণ্ডলের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রশাসনের আশ্বাস গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানি জানান, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই নজরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এ দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ইসরায়েল হাওলাদার আশ্বস্ত করে বলেছেন, সংবাদকর্মীর ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।